বিয়ের মরসুমে মোহময়ী

13

দিনদর্পণ : শীত পড়েছে জাঁকিয়ে, কিন্তু সামনেই তো আসতে চলেছে বিয়ের মরসুম। শীতকে হার মানিয়ে এই মরসুমে সাজপোশাকে তো হয়ে উঠতেই হবে নজরকাড়া। কনের দিকে চোখ তো থাকবেই তার সঙ্গে দেখবেন আপনার সাজ দেখে সবার নজর আটকে যাবে আপনার দিকে। শীতের মরসুমে ঘাম হওয়ার ভয় নেই, তাই সাজের জন্য বেছে নিতে পারেন জমকালো কাজের শাড়ীগুলি। শাড়ীর সঙ্গে মানানসই সাজ, গয়নায় বিয়ের সাজে আপনি হয়ে উঠবেন অপরূপা।

নতুন বছরের শুরু হতেই বিয়ের নেমন্তন্ন আসার পালা শুরু। বিয়েবাড়ি মানেই হাজারো মজা, দেদার খাওয়া-দাওয়া ও জমকালো সাজ। আর সাজের ক্ষেত্রে নিয়ন গ্রিন ও অরেঞ্জ রঙ ভীষণভাবে ফ্যাশনে ইন। কাতান মেটেরিয়ালের ভারী জমকালো শাড়ি পড়তেই পারেন। যদি শাড়ি পড়তে ইচ্ছা না হয় তাহলে কাতান দিয়ে স্পেশাল ড্রেস পড়ে তাক লাগিয়ে দিন। তবে সকালের গায়ে হলুদের বা আইবুড়োভাতের প্রোগ্রামের জন্য বেছে নিতে পারেন হাল্কা কাজের ঢাকাই শাড়ি।

শীতে মসলিন শাড়ী এড়িয়ে চলাই ভালো। বদলে পড়ুন নকশাদার লিনেন শাড়ী বা ভারী কাতান বেনারসি। তবে শাড়ী পড়লে অবশ্যই সঙ্গে ডিজাইনার শাল নিতে ভুলবেন না। আর যদি ক্যারি করতে পারেন তাহলে একরঙা সালোয়ারের সঙ্গে জমকালো কাশ্মীরি কাজের শালকে দোপাট্টা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আজকাল ক্রপ টপের যুগ। ব্লাউজের বদলে শাড়ির সঙ্গে ক্রপ টপ পড়ে নিন, সঙ্গে ন্যুড লিপস আর বোল্ড আই হয়ে উঠতে পারে আপনার সিগনেচার স্টাইল।

বাজারে এসেছে রকমারি এথনিক লুকের জ্যাকেট। যদি ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুকে স্বচ্ছন্দ হন তবে জিনস-টপের উপর পড়ে নিন কাশ্মীরি ওয়ার্কের লং জ্যাকেট সঙ্গে কানা বড় বড় হুপসে সবার নজর আটকে যাবে আপনারই দিকে। আজকাল বিয়ে বাড়ি মানেই তো শুধু বিয়েবাড়ি নয়, তার আগে ও পরে থাকে রকমারি অনুষ্ঠান। আইবুড়োভাত, আশির্বাদের পাশাপাশি অবাঙালী কায়দায় মেহেন্দি, সঙ্গীতও জায়গা করে নিয়েছে বাঙালির উৎসবের তালিকায়। বিয়ে মানে এখন সাতদিনের মেগা ইভেন্ট। তাই উৎসবে পড়া পোশাকের ক্ষেত্রে যাতে অনুষ্ঠানের সঙ্গে সাযুজ্য থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আজকাল অনেকেই বিয়ের আগে ইউরোপিয়ানদের কায়দায় ব্যাচেলার পার্টির আয়োজন করে থাকেন। সেই অনুষ্ঠানে কনের পড়নে সাস শর্ট ড্রেস ও কনের বন্ধুদের ড্রেসের রঙ হতেই পারে ব্ল্যাক, অ্যাশ, ব্রাউন বা ব্লু। পোশাকে সিকুইনদের কাজ থাকলে তা লুককে করে তুলবে আরও গ্ল্যামারাস।

আইবুড়োভাতে ট্র্যাডিশনাল পোশাকের বিকল্প নেই তবে যদি রাতে মেহেন্দি বা সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে যদি আপনার ইনভিটেশন থাকে সেক্ষেত্রে এথনিক কাজের স্কার্ট-টপগুলো ট্রাই করতেই পারেন। সঙ্গে নিয়ে নিন জমকালো কাজের ভারী দোপাট্টা ও মাঙ্গটিকা। দেখবেন নাচের ছন্দ আবর্তিত হচ্ছে আপনাকে কেন্দ্র করে।

আজকাল অনেকেই আলাদা করে এনগেজমেন্ট পার্টি করে। এরকম কোন পার্টিতে যদি আপনি নিমন্ত্রিত হন তাহলে পোশাক হিসেবে বেছে নিতে পারেন ওয়েস্টার্ন বা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন আউটফিট। ফ্লেয়ারড গাউনের সঙ্গে একলহরীর ডায়মন্ড নেকলেস বেছে নিতে পারেন। তবে কানে জমকালো ড্যাঙ্গলার পড়লে গলা থাকবে ফাঁকা। হাতের সাজে পড়তে পারেন একটা বড় ককটেল রিং। সঙ্গে ক্লাচ ব্যাগ ও পেন্সিল হিল, লাইমলাইট থাকবে আপনারই দিকে।

বিয়ের মুল অনুষ্ঠানে সনাতন সাজেই হয়ে ওঠা যায় নজরকাড়া। শীতে বিয়েবাড়ির জন্য বেছে নিতে পারেন ভারী কাজের তসর, জামেভর শাড়ী। তবে টিনএজ কন্যাদের অনেকেরই পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে ডিজাইনার নেট বা শিফন শাড়ী। তবে ভাবছেন তো ট্র্যাডিশনাল সাজে অন্যদের থেকে আপনি কিভাবে হয়ে উঠবেন স্পেশাল, তার জন্য নজর দিন ব্লাউজের ডিজাইনে। বাজারে রয়েছে রকমারি ব্লাউজের সম্ভার। তার মধ্যে নিজের পছন্দসই ব্লাউজটি বেছে নিতে পারেন। আর যদি আপনার পছন্দ হয় এক্সক্লুসিভ সেক্ষত্রে ডিজাইনারকে দিয়ে নিজের পছন্দের ব্লাউজটি বানিয়ে নিতে পারেন স্পেশাল অকেশনের জন্য। আর টিনএজাররা নজরকাড়া লুক পাওয়ার জন্য শাড়ীর উপর চাপিয়ে নিতে পারেন এথনিক কাজের লং জ্যাকেট। দেখুন বিয়েবাড়িতে আপনার লুকের প্রশংসায় মাতবে আট থেকে আশি।

আজকাল নিজেদের ঘনিষ্টজনদের নিয়ে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের চল রয়েছে। এই ওয়েডিংয়ে অতিথিসংখ্যা থাকে সীমিত। এইরকম কোন ওয়েডিংয়ের প্ল্যান যদি আপনার ঘনিষ্ট বন্ধু বা বান্ধবী করে থাকেন সেক্ষেত্রে জেনে নেবেন এটা থিম ওয়েডিং কিনা! থিম ওয়েডিং হলে থিমের সঙ্গে ম্যাচ করে পোশাক বাছতে হবে। আর যদি থিম ওয়েডিং না হয় সেক্ষেত্রে পোশাকের জন্য বাছতে পারেন ওয়েস্টার্ন বা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাক। দেখবেন বিয়ের অনুষ্ঠানে আপনার নজরকাড়া লুকের চর্চা হবে বহুদিন ধরে।